CTET Paper-II Bengali January 2024

CTET Paper-II Bengali January 2024 এর প্রশ্নগুলির উত্তর করে দেওয়া আছে। Central Teacher Eligibility Test এর প্রশ্নগুলি কেমন ধরণের হতে পারে, সে ধারণা পেতে সালের প্রশ্নগুলির অনুশীলন করা জরুরী।

CTET এ যে দুটি Language রাখতে হয়, তার মধ্যে একটি বাংলা রাখতে পারেন। এ বিষয়ে খুব সহজেই score করতে পারবেন। বাংলাকে যদি Language I নির্বাচন করেন, তাহলে 91 থেকে 120 পর্যন্ত প্রশ্নগুলোর উত্তর করতে হবে। আর আপনি যদি Language II নির্বাচন করেন তবে 121 থেকে 150 পর্যন্ত প্রশ্নগুলোর উত্তর করতে হবে। এখানে LANGUAGEI এ গদ্য থেকে 9 এবং পদ্য থেকে 6 মোট 15 নম্বর এবং LANGUAGEII এ দুটি গদ্যাংশ থেকে 8+7 মোট 15 নম্বর। অর্থাৎ LANGUAGEI এবং LANGUAGEII মিলিয়ে সর্বমোট 30 নম্বরের প্রশ্নোত্তর আলোচিত হয়েছে।

PART- IV, LANGUAGEI, BENGALI

যে-সব পরীক্ষার্থী বাংলা কে ভাষা- I হিসাবে নির্বাচিত করেছেন, তাঁরা অবশ্যই ভাগ-IV (91 থেকে 120 নং প্রশ্ন)-এর উত্তর দেবেন।


নির্দেশ: নিম্নে প্রদত্ত গদ্যাংশটি পড়ুন এবং সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলির (91 থেকে 99 নং প্রশ্ন) নিকটতম উত্তর নির্বাচন করুন।

অমিয়মাধবের মৃত্যুতে সমস্ত এলাহাবাদ শহরে একটা হৈচৈ পড়ে গেল। আর পড়াই তো স্বাভাবিক। এ তো সাধারণ মৃত্যু নয়-একেবারে, যাকে বলে, ইচ্ছামৃত্যু। সাধকদের ঈপ্সিত এ মৃত্যু কিন্তু ক’জন সাধকই বা এমন মৃত্যু পান? কলিযুগে কেন সেই ত্রেতা-দ্বাপরের পৌরাণিক কাহিনীর মধ্যেই বা কটা এমন মৃত্যুর কথা পাওয়া যায়? অমিয়মাধব পার্থিব দিক থেকে অতি সাধারণ ধরনের মানুষ ছিলেন বলেই তাই তাঁর ছেলেমেয়েদেরও খুব একটা পাব্লিসিটি বা প্রচারের লোভ ছিল না বলেও নইলে এলাহাবাদ কেন, সারা ভারতেই তো হৈচৈ পড়ে যাওয়ার কথা।

অমিয়মাধব রায় ছিলেন কনট্র্যাক্টর। কিছুদিন রূঢ়কীতে ইঞ্জিনীয়ারিংও পড়েছিলেন। পড়তে পড়তেই তাঁর বিবাহ হয়। বিবাহের সময় যে নগদ পাঁচ হাজার টাকা যৌতুক পাওয়া গিয়েছিল সেটা তাঁর বাবা বিবাহে খরচ করেন নি পুরোপুরিই ছেলের হাতে দিয়েছিলেন ভবিষ্যতের সম্বল বলে। অমিয়মাধবের পড়াশুনো আর বেশীদূর এগোয়নি, তার কারণ অবশ্যই নবোঢ়া পত্নীপ্রীতি নয় প্রধান কারণ বাবার অকালমৃত্যু। সংসারের ভার ঘাড়ে এসে পড়েছিল। বাবা যা রেখে গিয়েছিলেন তাতে যে আর বছর দুই পড়ে পাস করা চলত না তা নয় সেকালে রূঢ়কী থেকে পাস করলে সরকারী চাকরিরও অভাব হত না কিন্তু অতদিন অপেক্ষা করে অত কম আয়ের কথাটা ভাল লাগেনি অমিয়মাধবের। তিনি পৈতৃক অর্থ সংসারের জন্য রেখে যৌতুকের টাকাটা নিয়েই ব্যবসায়ে নেমে পড়েছিলেন এবং তারপর থেকে ক্রমাগত পরিশ্রম করে ত্রিশ বৎসরে ঠিক পাঁচশ গুণ মুনাফা আদায় করেছিলেন।

টাকা রোজগার করতে নেমেছিলেন কতকটা প্রয়োজনে কতকটা কৃতিত্ব প্রমাণ করতে, টাকার নেশা তাঁকে পেয়ে বসে নি। কোথায় কখন থামতে হয় তা তিনি জানতেন। ঠিক পঞ্চান্ন বছর বয়সে থামলেন তিনি। বললেন, ‘আর না। এবার যা করেছি তা ভোগ করব। এর চেয়ে বেশী দেরি করলে সে সময়টুকু বয়ে যাবে।’

এর মধ্যে তাঁর ছেলেরা মানুষ হয়ে গিয়েছিল। যার যা ইচ্ছা তাকে সেই পথেই যেতে দিয়েছিলেন অমিয়মাধব। বড়ছেলে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট, মেজছেলে উকীল, সেজছেলে ব্যবসাদার, ছোটটি সদ্য সরকারী চাকরিতে ঢুকেছে। মেয়ে একটি, তার বিয়ে হয়েছে এক ডাক্তারের সঙ্গে। মিলিটারী ডাক্তার কিন্তু অবস্থা ভাল। সবাই সুখী। তাদের কথা ভাববার কোন দরকার ছিল না তাঁর।

তবে কোথায় তাঁর শেষ আড্ডা গাড়বেন সেটা ভাবার প্রয়োজন ছিল। তাঁর জীবনের বেশীর ভাগই কেটেছে মধ্যভারতে। জব্বলপুর, ঝাঁসি, নাগপুর এর মধ্যেই তাঁর কাজকর্ম হয়েছে বেশীর ভাগ। ছেলেরাও ছড়িয়ে আছে এই দিকে ঝাঁসি, সাতনা, নাগপুর। মেয়ে থাকে পুনায়। সুতরাং অনেক ভেবে তিনি এলাহাবাদেই বাড়ি তৈরি করিয়েছিলেন। জব্বলপুরে করবার জন্যেই সকলে বলেছিল কিন্তু তিনি রাজী হন নি, বলেছিলেন, ‘না-চিরকালের কর্মক্ষেত্রে থাকলে বিশ্রাম হবে না। তাছাড়া অগঙ্গার দেশে মরতে চাই না। গঙ্গার কাছে থাকব।’

সে বহুদিনের কথা। এলাহাবাদে বসে একে একে যেমন নিজের ব্যবসা গুটিয়ে এনেছেন তেমনি একখানির পর একখানি বাড়ি কিনেছেন। দেহাতে চাষের জমিও করেছেন কিছু- কিন্তু সে কম। ঠিক নিজেদের প্রয়োজনমত। বলেছেন, ‘আমি মলে ছেলেরা এসব কিছুই উদ্ধার করতে পারবে না, বাড়িগুলো থাকলে ভাড়া দিয়ে না পারুক, বেচে খেতেও পারবে।’

অমিয়মাধব চিরদিনই একরোখা তেজী মানুষ। ধর্মভীরু বলতে যা বোঝায় তেমন মিনমিনে স্বভাবের নয়। ধর্মের ধারণাটা ছিল আলাদা। বলতেন, ‘মিথ্যে কথা বলেছি বৈকি! ঢের, ঝুড়ি ঝুড়ি বলেছি। ব্যবসা করব আর মিথ্যে কথা বলব না তা কখনও হয়। তবে তাতে দোষ নেই। বিনা কারণে একটিও মিথ্যে কথা বলি নি, এটা গর্ব করে বলতে পারি। যেটা আপনাদের মধ্যে অনেকেই বুকে হাত দিয়ে হলফ করে বলতে পারবেন না। অনেকেই অকারণে মিছে কথা বলেন তা আমি জানি।’

দানধ্যান ছিল, পরিমিত ও নিয়মিত। পূজাপার্বণ স্ত্রী বা বৌমারা যা করতেন, তাতে কখনও বাধা দেন নি, নিজের খুব উৎসাহও ছিল না। স্ত্রী উপবাস করতে বললে করতেন। বলতেন, ‘সহধর্মিণী তার ধর্মবিশ্বাসে আঘাত দেব কেন?’ নিজে দীক্ষা নেন নি, স্ত্রীকে অনুমতি দিয়েছিলেন দীক্ষা নিতে। নিজে শুধু ত্রি-সন্ধ্যা গায়ত্রী করতেন, পর্বদিনে গঙ্গাস্নান করতেন আর ভোরবেলা বিছানায় বসে কী জানি কি নাম বা মন্ত্র জপ করতেন। পরলোকের কাজ বলতে ঐটুকু।

MCQ প্রশ্নোত্তর

CTET Paper-II Bengali January 2024 MCQ প্রশ্ন ও উত্তর গুলি নিচে দেওয়া হল। প্রশ্নের উত্তরগুলি সরাসরি না দিয়ে শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে উত্তরটি লুক্কায়িত আছে। পরীক্ষার্থীদের চেষ্টা করার সুযোগ আছে। উত্তরে Click👈 করলেই উত্তরটি দেখা যাবে।

1. “পর্বদিনে গঙ্গাস্নান করতেন আর ভোরবেলায় বিছানায় বসে কী জানি কী নাম বা মন্ত্র জপ করতেন” বাক্যটির সাধুভাষার সঠিক রূপ কোনটি?
(A) পর্বদিনে গঙ্গাস্নান করিতেন আর ভোরবেলায় বিছানায় বসে কী জানি কী নাম বা মন্ত্র জপ করিতেন।
(B) পর্বদিনে গঙ্গাস্নান করিতেন আর ভোরবেলায় বিছানায় বসিয়া কী জানি কী নাম বা মন্ত্র জপ করিতেন।
(C) পর্বদিনে গঙ্গাস্নান করতেন আর ভোরবেলায় বিছানায় বসিয়া কী জানি কী নাম বা মন্ত্র জপ করিতেন।
(D) পর্বদিনে গঙ্গাস্নান করিতেন আর ভোরবেলায় বিছানায় বসিয়া কী জানি কী নাম বা মন্ত্র জপ করতেন।

2. নিম্নে প্রদত্ত কোন বিশেষণটি অমিয়মাধবের চরিত্র বর্ণনায় প্রযোজ্য নয়?
(A) ধর্মভীরু
(B) একরোখা
(C) উদার মনোভাবাপন্ন
(D) ব্যবসায়িক দূরদৃষ্টিসম্পন্ন

3. কোন্ বিবৃতিটি সঠিক?
(A) পৈতৃক অর্থ দিয়ে ব্যবসা করে অমিয়মাধব মুনাফা করতে পারেন নি।
(B) অমিয়মাধব মৃত্যুর দিন পর্যন্ত ব্যবসা চালিয়ে যেতে লাগলেন।
(C) পেশা নির্বাচনে ছেলেদের উপর কখনও নিজের মতামত চাপিয়ে দেন নি।
(D) তিনি ব্যবসার শ্রীবৃদ্ধির আশায় এলাহাবাদে বসবাস শুরু করলেন।

4. ‘পরিমিত’ এর বিশেষ্য রূপ কোনটি?
(A) পরিমার্জিত
(B) পরিমেয়
(C) পরিমিতি
(D) পরিমাপ

5. “যার যা ইচ্ছা তাকে সেই পথেই যেতে দিয়েছিলেন অমিয়মাধব” কোন শ্রেণীর বাক্য?
(A) জটিল
(B) সরল
(C) মিশ্র
(D) যৌগিক

6. নিম্নে প্রদত্ত বিবৃতিগুলি ঘটনাক্রম অনুযায়ী সাজালে সঠিক ক্রমটি হবে:-
(ক) অমিয়মাধব এলাহাবাদে বসে সমস্ত ব্যবসা গুটিয়ে নিলেন।
(খ) অমিয়মাধব মধ্যপ্রদেশের বিভিন্ন শহরে তাঁর ব্যবসা চালাতে লাগলেন।
(গ) অমিয়মাধব রূঢ়কীতে ইঞ্জিনীয়ারিং পড়তেন।
(ঘ) যৌতুকে পাওয়া টাকা দিয়ে ব্যবসা শুরু করলেন।

সঠিক উত্তর নির্বাচন কর:-

  • (A) (খ)➡️(গ)➡️(ক)➡️(ঘ)
  • (B) (গ)➡️(ঘ)➡️(খ)➡️(ক)
  • (C) (ক)➡️(গ)➡️(খ) ➡️ (ঘ)
  • (D) (ঘ)➡️(গ)➡️(খ)➡️(ক)

7. ‘পূজাপার্বন’ কোন সমাস?
(A) তৎপুরুষ
(C) বহুব্রীহি
(C) দ্বিগু
(D) দ্বন্দ্ব

8. জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তিনি এলাহাবাদে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে শুরু করলেন কেন?
(A) তিনি প্রতিদিন গঙ্গাস্নান করতেন বলে।
(B) তিনি অত্যন্ত ধর্মভীরু ছিলেন বলে।
(C) গঙ্গাতীরবর্তী শহরে জীবনের শেষ দিনগুলি কাটানোর জন্য।
(D) ধার্মিক স্ত্রী এবং পুত্রবধূর কথা অমান্য করতে না পেরে।

9. অমিয়মাধবের ব্যবসা শুরু করার পিছনে প্রধান কারণ কী ছিল?
(A) পিতার মৃত্যুতে তিনি কপর্দকশূন্য হয়ে পড়েছিলেন।
(B) নববধূর প্ররোচনায় তিনি পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়া স্থির করলেন।
(C) পিতার রেখে যাওয়া টাকা তাঁর ইঞ্জিনীয়ারিং কলেজের বেতনের জন্য যথেষ্ট ছিল না।
(D) ইঞ্জিনীয়ারীং করে যে স্বল্প বেতনের সরকারী চাকরি পাওয়া যাবে তাতে তিনি সন্তুষ্ট ছিলেন না।

নির্দেশ: নীচের কবিতাটি পড়ুন এবং সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলির (100 থেকে 105 নং প্রশ্ন) নিকটতম উত্তর নির্বাচন করুন।

টাকার অভাবে বিটিটোর বিহা দিতে পারিনি
উত্তরপোদেশের ছোড়া পাঁচশো টাকায় কিনে নিয়ে গেল
আজও কোনো খবর পাইনি জান্ডা যে কী করে
ঘরদোর ফাঁকা ফাঁকা মালক্ষ্মী আছে কেমন করে?

পূজোয় একটো কাপুড় দিতে পারিনি বলে কত দুঃখু
লালপেড়ে চেয়েছিল ক’টা টাকার জন্যি তোরে
ছেড়ে দিতে হ’ল বিদেশে বিভুঁইয়ে
বাতাস, তুই আমার পুন্নির গা ছুঁয়ে আসিস্

মা মরা মেয়্যা গুবোর ঝুড়ি নামিয়ে রেখে হেঁসেলে
আস্তিস্ঃ ‘বাবা কী রাধবো চাল বাড়ন্ত’
খুদটুদ যা রাধতিস একেবারে অম্ঋত্
বুড়া বয়েসে ভগোবান আমারে এত দুঃখু দিলি

তোর মা-রে কতদিন হারাইছি শুধু তোর জন্যি
দ্বিতীয় সংসারের কথা ভাবিনি, হৃদয়খানা রাত্তির
আকাশের মতো তোলপাড় করে ঘুম আসে না বিটি
একদম ঘুম আসে না কতদিন তোকে যে দেখিনি!

10. “বাতাস, তুই আমার পুন্নির গা ছুঁয়ে আসিস”- উক্তিটিতে কীসের ব্যকুলতা প্রকাশ পেয়েছে?
(A) কন্যার রান্না করা খুদ খাওয়ার ব্যাকুলতা।
(B) কন্যার স্পর্শ পাওয়ার ব্যাকুলতা।
(C) কন্যাকে লাল পেড়ে শাড়ি কিনে দেওয়ার ব্যাকুলতা।
(D) নিঃসঙ্গ জীবনে দ্বিতীয় পত্নী আনার ব্যাকুলতা।

11. “বাবা কী রাঁধব চাল বাড়ন্ত”- এখানে ‘বাড়ন্ত’ শব্দের অর্থ-
(A) নিঃশেষিত
(B) পর্যাপ্ত
(C) অপর্যাপ্ত
(D) যথেষ্ট

12. পিতার অসহায়তার যে করুণ চিত্রটি এখানে ফুটে উঠেছে তার কারণ কী?
(A) পত্নীর অসুখে উপযুক্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা না করতে পারার দুঃখ।
(B) পত্নী বিয়োগের পর দ্বিতীয় বিবাহ না করার পশ্চাত্তাপ।
(C) দীর্ঘদিন মেয়ের হাতের রান্না খেতে না পাওয়ার দুঃখ।
(D) অর্থাভাবের দরুণ বিয়ে দিতে না পেরে মেয়েকে দূরদেশে বিক্রি করার যন্ত্রণা।

13. “আকাশের মতো তোলপাড় করে” উদ্ধৃতিটিতে কোন অলঙ্কার প্রয়োগ করা হয়েছে?
(A) যমক
(B) শ্লেষ
(C) উপমা
(D) অনুপ্রাস

14. “পুজোয় একটো কাপুড় দিতে পারিনি বলে কত দুঃখু” পংক্তিটির প্রচলিত কথ্য ভাষার সঠিক রূপটি হবে-
(A) পূজোয় একটা কাপুড় দিতে পারিনি বলে কত দুঃখ।
(B) পূজোয় একটা কাপড় দিতে পারিনি বলে কত দুঃখ।
(C) পুজোয় একটো কাপড় দিতে পারিনি বলে কত দুঃখ।
(D) পুজোয় একটা কাপড় দিতে পারিনি বলে কত দুঃখু।

15. কবিতাটির মাধ্যমে কী প্রকাশ পেয়েছে?
(A) পত্নীর মৃত্যুতে পতির মানসিক যন্ত্রণা।
(B) কন্যার মৃত্যুতে পিতার মানসিক যন্ত্রণা।
(C) কন্যার দূরদেশে বিয়ে দেওয়ায় পিতার বিয়োগব্যথা।
(D) দৈন্য দায়ে কন্যা বিক্রি করতে বাধ্য পিতার হাহাকার।

PART- V, LANGUAGEII, BENGALI

যে-সব পরীক্ষার্থী বাংলা কে ভাষা-II হিসাবে নির্বাচিত করেছেন, তারা অবশ্যই ভাগ-V (121 থেকে 150 নং প্রশ্ন) এর উত্তর দেবেন।

নির্দেশঃ- নিম্নে প্রদত্ত গদ্যাংশটি পড়ুন এবং সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলির (121 থেকে 128 নং প্রশ্ন) নিকটতম উত্তর নির্বাচন করুন।

বাহাত্তুরে বুড়ো চৈতন্য দাদু। আজগুবি গপপো ফাঁদতে তাঁর জুড়ি কেউ ছিলেন না। ছেলেবেলা থেকে সাগরে ও সাগরের চরে মাছ-কাঁকড়া ধরে কাটিয়েছেন, মাঝবয়সে সুন্দরবনের জঙ্গল সাফ করে চাষের জমি তৈরি করেছেন। শেষ বয়সে ঘরে। বাঘ, কুমির, সাপ, মাছ, হাঙর এবং আরও নানা আজব আজব জানোয়ারের গপপো ফেঁদে আমাদের একেবারে তাক লাগিয়ে দিতেন। সামান্য সত্য ঘটনাকে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে এত বড় রোমহর্ষক করে তুলতেন যে, মনে হতো একেবারে সত্য ঘটনা। তেমনই একটি কাহিনি তাঁর দেখা চলমান ফুল।

চৈতন্য দাদুর আমলেও সাগরতীরে চর ছিল। এখানে-ওখানে গজিয়ে উঠেছিল এক-একটা বালিয়াড়ি। চরের বেশির ভাগ জায়গা জুড়ে ছিল লোনা ভূমির গাছপালা ঝোপঝাড় বিষাক্ত পোকামাকড় এবং শেয়াল-শুওরদের আস্তানা। তবু মাছ, কাঁকড়ার লোভে অনেকেই যেতেন। চৈতন্য দাদু ছিলেন তাদের একজন। খালে খালে মাছ ধরতেন এবং মাঝে মাঝে যেতেন কাঁকড়া ধরতে। কাঁকড়ার গর্ত খুঁজতে সময় লাগতো বলে সকালে রোদ ওঠার পর পিঠে গামছায় বাঁধা পোড়া পিঠে ঝুলিয়ে এবং হাতে খাড়, খালুই ও বাঁশের তৈরি ইয়া বড়ো গেঁজ নিয়ে বেরিয়ে পড়তেন। ফিরতেন বিকেলে। মধ্যাহ্ন সারতেন পিঠে খেয়ে।

একদিন দুপুরে একটা বালিয়াড়িতে কেয়াঝোপের তলায় বসে পিঠে খাচ্ছিলেন। বালিয়াড়িটা বেশ বড়। গাছপালাও নেই। হঠাৎ একটা উদ্ভট চিন্তা মাথায় এলো। আষাঢ় আসছে, বালিয়াড়িতে শণের বীজ বুনলে কেমন হয়? ঘরে তো অঢেল শণবীজ।

কয়েকদিন বাদে পুনরায় কাঁকড়া ধরতে গিয়ে বিরাট এক এলাকা জুড়ে বুনে এলেন শণের বীজ। এলো আষাঢ় মাস। বৃষ্টি বাদলায় চাষবাষ ফেলে আর যাওয়া হলো না চরে। ভুলেই গেলেন শণবীজ বোনার কথা। তাঁর মতে ইন্দ্রদেব ভাদ্রমাসের একটা পক্ষ চাষিকে দেয় আর একটা পক্ষ দেয় মুচিদের। সে বছর ভাদ্রের প্রথম পক্ষ চাষিকে দিয়ে শেষ পক্ষটায় মেঘদের ঘরে ডেকে নিলেন। কয়েকদিন ধরে একটানা কাঠফাটা রোদ্দুর এবং ভ্যাপসা গরম দেখে কাঁকড়া ধরার নেশা চেপে বসলো। সেই পোড়া পিঠে পিঠে ঝুলিয়ে একদিন ছুটলেন কাঁকড়ার খোঁজে। এই সময় থেকে কাঁকড়া গর্তবাস শুরু করে এবং ঘন ঘন খোলস বদলায়।

খাল, বন বাদাড় ইত্যাদি ভেঙে সাগরের কাছাকাছি হতেই চোখে পড়লো হলুদ রঙের ঘন বন। চোখ কপালে তুলে দাঁড়িয়ে পড়লেন। এখানে বন এলো কোথা থেকে? তাও আবার হলুদ বন। সাগর জাদুকর বটে। কিন্তু মাত্র তিন মাসের ভেতরে কোন জাদুকরি বিদ্যায় গড়ে ফেলেছে এমন আশ্চর্য সুন্দর এক বনভূমি?

হঠাৎ মনে পড়ে গেল শণবীজ বোনার কথা। কাঁকড়া ধরা মাথায় উঠলো। ছুটলেন সেই বনের দিকে। বনের ধারে দাঁড়িয়ে উপরের দিকে তাকাতেই চোখ দুটো স্থির হয়ে গেল। আট-দশ হাত উঁচু গাছের ডগাগুলো ফুলে ফুলে ভরা। কাঁচা হলুদের মতো রঙ। নানা রঙের প্রজাপতি, বোলতা আর ভোমরারা ঘুরে বেড়াচ্ছে। কেউ মধু খাচ্ছে, কেউ হলুদ মাখছে, কেউ বা বাসা বানাবার জন্য পাতা কেটে বুকে চেপে ধরছে। তাঁরই রচিত আশ্চর্য বনের অত্যাশ্চর্য রূপ এবং বন থেকে ভেসে আসা সৌরভ তাকেই বিবশ করে ফেললো। হাঁ করে দাঁড়িয়ে রইলেন এবং পরম মমতায় আলতোভাবে দু-চারটে গাছকে একসঙ্গে জড়িয়ে ধরলেন।

কিছুক্ষণ পরে পায়ের গোড়ালি থেকে নিচের দিকটা কুট কুট করতে শুরু করায় তিনি কল্পরাজ্য থেকে বাস্তব জগতে ফিরে এলেন। নিচের দিকে তাকিয়েই আঁৎকে উঠলেন। তাঁকে ঘিরে ফেলেছে আরও আশ্চর্য ধরনের হাজার হাজার ফুল। পাপড়িগুলো তাঁর পায়ে ঝাপটা দিচ্ছে আর বিছুটির জ্বালা ধরিয়ে দিচ্ছে। পা বেয়ে উপরে উঠতেও শুরু করে দিয়েছে কেউ কেউ। বনের ভিতর থেকে পিলপিল করে বেরিয়ে আসছে আরও হাজার কয়েক। বোধ হয় শণফুল খাচ্ছিল এবং অবাঞ্ছিতকে উপস্থিত হতে দেখে আক্রোশে ফেটে পড়ে আক্রমণে তৎপর হয়ে উঠেছে। গেঁজ পিটিয়ে মারতে গেলেন। কিন্তু কটাকে মারবেন? দুটোকে মারলে দশটা চেপে বসে। গেঁজ দিয়ে ছাড়াতে চাইলেন, তাতেও কিচ্ছু হল না। অগত্যা লাফ দিয়ে বালিয়াড়ি থেকে বেলাভূমিতে নেমে এলেন। কিন্তু তাতেও কী রক্ষাআছে? ততক্ষণে বন থেকে বেরিয়ে এসেছে ষাট হাজার খুদে দৈত্য। চোখের পলক ফেলতে না ফেলতেই বেলাভূমিতে তাঁর চারদিকে বেষ্টনী রচনা করে ফেললো। চক্রব্যুহের ভেতরে অভিমন্যুর মতো তিনি শুধু গেঁজ ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে তাড়াতে চেষ্টা করলেন। না, ছাড়ার পাত্র নয় তারা, আরও তেড়ে এলো। উপায় না দেখে নেমে পড়লেন সাগরে হাঁটুসমান জলে। ঘন ঘন ঢেউ আসছে এবং আছড়ে পড়ছে বেলাভূমিতে। ভাবলেন, ঢেউয়ের তোড়ে নাকানি চোবানি খেয়ে পালিয়ে যাবে।

1. বিবৃতিঃ- যাট হাজার খুদে দৈত্যের হাত থেকে মুক্তি পেতে তিনি হাটু সমান জলে নেমে পড়লেন।
কারণঃ- (ক) আশ্চর্য ধরনের হাজার হাজার ফুলের পাপড়িগুলো তাঁর গায়ে ঝাপটা দিচ্ছে ও বিছুটির জ্বালা ধরিয়ে দিচ্ছে।
কারণঃ- (খ): হলুদ ফুলে ভরা বনের অত্যাশ্চর্য রূপ এবং বন থেকে ভেসে আসা সৌরভ তাকেই বিবশ করে ফেলল।
(A) কারণ (ক) এবং (খ) দুটোই ঠিক
(B) কারণ (ক) ঠিক; (খ) ভুল
(C) কারণ (ক) এবং (খ) দুটোই ভুল
(D) কারণ (ক) ভুল; (খ) ঠিক

2. “ঘন ঘন ঢেউ আসছে এবং আছড়ে পড়ছে বেলাভূমিতে” কোন শ্রেণীর বাক্য?
(A) সরল
(B) জটিল
(C) যৌগিক
(D) মিশ্র

3. ‘বালিয়াড়ি’ শব্দটির অর্থ কী?
(A) সমুদ্র বা নদনদীর বালিপূর্ণ উঁচু তীরভূমি
(B) সমুদ্র বা নদনদীর বালিপূর্ণ সমতল তীরভূমি
(C) শাড়ি বিশেষ
(D) মিষ্টি বিশেষ

4. প্রদত্ত গদ্যাংশটির বর্ণনা অনুযায়ী সঠিক ঘটনাক্রমটি হবে-
(ক) ভাদ্রের শেষে পোড়া পিঠে পিঠে ঝুলিয়ে চললেন কাঁকড়ার খোঁজে।
(খ) ছুটলেন সেই আশ্চর্য সুন্দর হলুদ বনভূমির দিকে।
(গ) হাজার হাজার ফুল তাঁকে বেষ্টন করল।
(ঘ) কাঁকড়া ধরতে গিয়ে বুনে এলেন শণের বীজ।
সঠিক ক্রমটি কী?

  • (A) (খ)➡️(গ)➡️(ক)➡️(ঘ)
  • (B) (গ)➡️(ঘ)➡️(খ)➡️(ক)
  • (C) (ক)➡️(গ)➡️(খ) ➡️ (ঘ)
  • (D) (ঘ)➡️(ক)➡️(খ)➡️(গ)

5. “বন থেকে ভেসে আসা সৌরভ তাকেই বিবশ করে ফেলল।” ‘বন থেকে’ কোন কারক?
(A) অপাদান
(B) অধিকরণ
(C) করণ
(D) কর্ম

6. চৈতন্য দাদুর মধ্যাহ্নে প্রধান খাবার কী ছিল?
(A) পোড়া কাঁকড়া
(B) পোড়া পিঠে
(C) মাহ
(D) শণবীজ

7. নীচের বিবৃতিগুলি পড়ুন ও সঠিক উত্তর নির্বাচন করুন।
(ক) সামান্য ঘটনাকে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে আজগুবি গল্প বানাতে তিনি ছিলেন অতুলনীয়।
(খ) মাছ, কাঁকড়ার লোভ থাকলেও সাগরতীরের লোনাভূমির ঝোপে ঝাড়ে চৈতন্য দাদু কখনই যেতেন না।
(গ) পিঠে দিয়ে মধ্যাহ্ন ভোজন সারতে সারতে তার শণবীজ বোনার উদ্ভট চিন্তা মাথায় এলো।
(ঘ) নিজের বোনা শণবীজ থেকে গড়ে ওঠা বনের অত্যাশ্চর্য রূপ দেখেও তার শণবীজ বোনার কথা মনে এলো না।
(A) (ক) এবং (খ) বিবৃতি দুটি সত্য।
(B) (ক) এবং (ঘ) বিবৃতি দুটি সত্য।
(C) (গ) এবং (ক) বিবৃতি দুটি সত্য।
(D) (গ) এবং (খ) বিবৃতি দুটি সত্য।

8. কখন চৈতন্য দাদু কল্পজগত থেকে বাস্তবে ফিরে এলেন?
(A) শণবনের হলুদ ফুলে ভরা রূপ দেখে।
(B) শণবনের ফুলের ভেসে আসা সৌরভে মুগ্ধ হয়ে।
(C) তারই রচিত শণগাছগুলিকে পরম মমতায় জড়িয়ে ধরে।
(D) হাজার হাজার চলমান ফুলের আক্রমণের যন্ত্রণায় অস্থির হয়ে।

ছায়াপথ-এই ঘূর্ণায়মান, সমতল চাকতিটির কেন্দ্রে বা কেন্দ্রের খুব কাছে রয়েছে একটি নক্ষত্র। নানা দিক দিয়েই নক্ষত্রটিকে অনন্য বলা যায় যার মধ্যে তার বৈশিষ্ট্য ও পরিস্থিতিও পড়ে। যেমন, এই নক্ষত্রটিকে কেন্দ্র করে ঘুরছে দুটি গ্রহ। আমরা প্রাণ বলতে যা বুঝি তা ঐ দুটি গ্রহেও সৃষ্ট হয়েছিল এবং দফায় দফায় সেখানে সভ্যতার বিকাশ ও বিনাশও ঘটেছে। ওখানকার বিজ্ঞানীরা তাঁদের নীহারিকাগত পরিবেশ সম্বন্ধে জানার জন্য মহাকাশযানও প্রেরণ করেছেন। তাঁরা বিশ্বাস করেন যে মহাবিশ্বে নিশ্চয়ই অজানা সভ্যতার বিকাশ ঘটেছে – সম্ভবত তাঁরা যে নক্ষত্রপুঞ্জের বাসিন্দা তার মধ্যেই এর অস্থিত্ব রয়েছে। আমরা, পৃথিবীবাসী মানুষেরা ঐ যমজ গ্রহের বুদ্ধিমান প্রাণীদের নাম দেব টেম্পোরীয় ও তাদের দুই গ্রহকে টেম্পোরা-1 ও টেম্পোরা-2 নামে অভিহিত করব। বলাই বাহুল্য যে নক্ষত্রটিকে ঐ দুই গ্রহ প্রায় বৃত্তাকার পথে প্রদক্ষিণ করে চলেছে সেটিই হল তাদের সূর্য বা দুই টেম্পোরা-র সূর্য।

জনৈক টেম্পোরীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানী খুবই আশা নিয়ে বহুদূরে অবস্থিত একটি নক্ষত্রটিকে লক্ষ্য করছেন। তিনি হলেন আমাদের সর্বোচ্চ সম্মানে ভূষিত জ্যোতির্বিজ্ঞানীর সমপর্যায়ের। যে যন্ত্রটি তিনি ব্যবহার করছেন তা হল মনোবীক্ষণ এ হল জীববিজ্ঞানের সূত্রানুযায়ী প্রস্তুত এক দূরবীক্ষণ যন্ত্র যা আলোর চেয়েও দ্রুততর কোনো রহস্যময় ও শক্তিশালী বিকিরণ কাজে লাগায়। নক্ষত্রটিকে ঘিরে একাধিক গ্রহের অবস্থিতি বড়ই অবিশ্বাস্য বলে তাঁর কাছে ঠেকছে। তিনি দূরাবস্থিত গ্রহগুলি সম্বন্ধে বেশি আগ্রহী নন কিন্তু 2, 3, 4 এবং 5 নং গ্রহগুলি দেখে তিনি বিস্ময়াবিষ্ট যদিও পঞ্চমটি সম্বন্ধে তিনি খুব নিশ্চিন্ত হতে পারছেন না।

পৃথিবীতে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ সবে শেষ হয়েছে। এই যুদ্ধের সূত্রপাত কে ঘটায় সে বিষয়ে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা খুব নিশ্চিন্ত নন কিন্তু এর ফল পরিণাম ছিল যেমন অপ্রত্যাশিত তেমনি তার দরকারও ছিল। কেউ চায়নি যে এই হতভাগ্য গ্রহের পৃষ্ঠ থেকে যাবতীয় মনুষ্যজাতি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাক। বৃহৎ শক্তিবর্গের কাছে পারমাণবিক অস্ত্রের যে ভাণ্ডার ছিল তার পরিমাণ অনেকটা কমে গেছে এবং মুষ্টিমেয় ভাগ্যবান ধনীরাই এই যুদ্ধের মধ্যে দিয়ে বেঁচেবর্তে থাকতে পেরেছে কারণ তারা ভূগর্ভস্থ প্রকোষ্ঠগুলি ভাড়া করতে পেরেছিল। গ্রহের ভূপৃষ্ঠ এখনও মানুষের পক্ষে নিরাপদ নয় এবং বৃক্ষাদি ও উদ্ভিদ সমেত মানবেতর সব প্রাণীই প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। সংক্ষেপে বললে পৃথিবীর পরিবেশ ও প্রাণমণ্ডলের ভারসাম্য সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে এবং এই একবিংশ শতাব্দীতে মানব সভ্যতার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে কালের অতিবাহিত হওয়া ও মানুষের উদ্ভাবনী প্রচেষ্টার ওপর। এই গ্রহ এক বীভৎস নাটকের মূক দর্শক হয়ে এই ধ্বংসলীলা অবলোকন করেছে এবং মানুষরা অসহায়ভাবে সেই অবধারিত অন্তিমের অপেক্ষায় রয়েছে।

বিজ্ঞানীদের ব্যাপারটা কিন্তু আলাদা। এঁদের কাঁধে এখন চূড়ান্ত দায়িত্ব এবং যারা রক্ষা পেয়েছে তারা অধীর আশায় একমাত্র মুক্তিদাতা ভেবে বিজ্ঞানীদের মুখ চেয়ে রয়েছে। অনেকেই ঐ বিজ্ঞানীদের দোষ দিয়েছিল। বলেছিল যে ঐ বিজ্ঞানীরাই ভয়াবহ ঐ সব অস্ত্রের উদ্ভাবক। কিন্তু বিজ্ঞানীরা তাঁদের আবেদনে বলছেন যে রাজনৈতিক ও অন্যবিধ চাপে পড়েই তাঁদের ও কাজ করতে হয়েছিল, উপরন্তু যা ঘটে গেছে তা নিয়ে মড়াকান্না কেঁদে লাভ নেই। যা ঘটেছে তা ঘটে গেছে এবং যুদ্ধের নামে যা যা করা হয়েছে তার প্রতিবিধান করা আজ সম্ভব নয়। দেখা গেছে যে এই জাতীয় বিতর্কও অর্থহীন তাই বিজ্ঞানীদের মার্জনা করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, বিনীতভাবে, এমন কি হাতে পায়ে ধরেও তাঁদের কাছে এমন নিবেদন রাখা হচ্ছে যাতে করে তাঁরা এই গ্রহকে পুনরায় প্রাণধারণের যোগ্য করে তোলেন।

আন্তর্জাতিক নভোবস্তুবিদ্যা ইনস্টিটিউটের সদর দপ্তর নয়া দিল্লিতে অবস্থিত। এর পরিচালক, ড° মালিক হচ্ছেন একজন বিশিষ্ট বিজ্ঞানী। কিন্তু তাঁকে নভোবস্তুবিশারদ বলাই বরং ভাল কারণ বিজ্ঞানের অন্যান্য শাখাতেও সমধিক পারদর্শিতার দাবি তিনি করেন না। অন্যান্য বাড়ি ঘরের মতই ইনস্টিটিউটের গবেষণাগার ও দপ্তরগুলি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলে ভেঙে গুঁড়িয়ে গিয়েছিল। যা কিছু বেঁচেছিল সেগুলো নিয়ে ড° মালিক ভূগর্ভস্থ একটি বাড়িতে চলে যান যার ছাদটি ছিল ইস্পাতের। সেরকম একটা জায়গা থেকে জ্যোতির্বিজ্ঞানগত বা কোনোরকম বীক্ষণের কাজই সম্ভব নয়। সংকট-কালীন বিশেষ পরিস্থিতিতে এসব কথা অবশ্য ওঠেই না।

9. প্রদত্ত গদ্যাংশটি কী জাতীয় রচনা?
(A) বস্তুবিজ্ঞান ভিত্তিক
(B) রূপকথা ভিত্তিক
(C) কল্পবিজ্ঞান ভিত্তিক
(D) জ্যোতিষশাস্ত্র ভিত্তিক

10. ‘বীক্ষণ’ শব্দটির অর্থ কী?
(A) বিশেষভাবে দর্শন
(C) বিশেষভাবে পঠন
(C) অমনোযোগী দর্শন
(D) অমনোযোগী পঠন

11. ‘উদ্ভাবনী’ এই বিশেষণটির নিচে কোন ক্ষেত্রে সঠিক প্রয়োগ হয়েছে?
(A) উদ্ভাবনী-গৃহ
(B) উদ্ভাবনী-নক্ষত্র
(C) উদ্ভাবনী-শক্তি
(D) উদ্ভাবনী-যুদ্ধ

12. তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পৃথিবীতে কারা নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা করতে পেরেছিল এবং কেন?
(A) ভাগ্যবান মানুষেরা কারণ ঈশ্বর তাদের সহায় ছিলেন।
(B) ভাগ্যবান বৈজ্ঞানিকেরা কারণ তাঁরা বৈজ্ঞানিক গবেষণাগারে থেকে নিজেদের রক্ষা করেছিলেন।
(C) টেম্পোরা-1 এবং টেম্পোরা-2 এ বসবাসকারী মানুষেরা কারণ তারা পৃথিবী থেকে পলায়ন করে এই দুটি গ্রহে আশ্রয় নিয়ে ছিল।
(D) কিছুসংখ্যক ভাগ্যবান ধনীরা কারণ তারা অর্থের জোরে ভূগর্ভস্থ প্রকোষ্ঠ ভাড়া করেছিল।

13. যে দুটি গ্রহ বিশেষ নক্ষত্রটিকে কেন্দ্র করে ঘুরছে সেই দুটি গ্রহের বুদ্ধিমান বসবাসকারীদের পৃথিবীবাসীরা কী নামে অভিহিত করবে?
(A) নক্ষত্রপুঞ্জবাসী
(B) টেম্পোরা- 1
(C) টেম্পোরা- 2
(D) দেব টেম্পোরীয়

14. “যে যন্ত্রটি তিনি ব্যবহার করেছেন তা হল মনোবীক্ষণ” বাক্যটিকে সবল বাক্যে রূপান্তরিত করলে সঠিক রূপটি হবে-
(A) যন্ত্রটি তিনি ব্যবহার করেন তাই এটি হল মনোবীক্ষণ।
(B) তাঁর ব্যবহৃত যন্ত্রটি হল মনোবীক্ষণ।
(C) যন্ত্রটি তিনি ব্যবহার করেছেন এবং এটি হল মনোবীক্ষণ।
(D) যন্ত্রটি ব্যবহার করেছেন বলে তিনি হলেন মনোবীক্ষণ।

15. স্তম্ভ মিলিয়ে সঠিক বিকল্পটি চিহ্নিত করো— 

ক – স্তম্ভখ – স্তম্ভ
(ক) টেম্পোরীয়-2(i) আলোর চেয়েও শক্তিশালী বিকীরণ ব্যবহার করে।
(খ) দেব টেম্পোরিয়(ii) ডঃ মালিকের পারদর্শিতার বিষয়
(গ) নভোবস্তু(iii) নূতন সৃষ্ট গ্রহ
(ঘ) মনোবীক্ষণ যন্ত্র(iv) নূতন গ্রহ দুটিতে বসবাসকারী প্রাণী

(A) ) (ক)-(ii), (খ)-(iii), (গ)-(i), (ঘ) – (iv)

(B) (ক)-(iii), (খ)-(iv), (গ)-(ii), (ঘ) – (i)

(C) (ক)-(i), (খ)-(iv), (গ)-(ii), (ঘ) – (iii)

(D) (ক)-(iv), (খ)-(iii), (গ)-(ii), (ঘ) – (i)

অনুরূপ পাঠ

CTET Paper-II Bengali January 2024 MCQ প্রশ্ন ও উত্তর এর মতো ctet এর অনুরূপ পাঠগুলি জানতে নিম্নের Link এ Click করে জেনে নাও

Leave a Comment