লৌকিক ও আধুনিক সংস্কৃত সাহিত্যের ইতিহাস থেকে LONG প্রশ্ন ও উত্তর দ্বাদশ শ্রেণীর SEMESTER – 4 পাঠ্য হিসেবে নির্দিষ্ট। এখান থেকে রচনাধর্মী প্রশ্ন আসবে। 4 নম্বরের ব্যাখ্যামূলক উত্তর সংস্কৃত, বাংলা, ইংরেজী অথবা হিন্দি ভাষায় করতে হবে। এখানে বাংলা ভাষায় উত্তর দেওয়া হয়েছে।
নিম্নলিখিত বিষয়গুলি থেকে প্রশ্নোত্তর অনুশীলন করতে হবে। 1) গদ্যকাব্য- দণ্ডী ও বাণভট্টের সহিত্যকৃতি থেকে (সংক্ষিপ্ত পরিচয়), 2) চম্পূকাব্য- নলচম্পূ ও ভারতচম্পূ (সংক্ষিপ্ত ধারণা), 3) আয়ুর্বেদ- চরক ও সুশ্রুত (গ্রন্থাকার ও গ্রন্থের সংক্ষিপ্ত পরিচয়), 4) আধুনিক বাঙালি সংস্কৃত সাধক ও সাহিত্যকৃতি (সংক্ষিপ্ত পরিচয়) সিদ্ধেশ্বর চট্টোপাধ্যায়, সিতানাথ আচার্য, তারাপদ ভট্টাচার্য, বীরেন্দ্রকুমার ভট্টারচার্য ও শ্রীজীব ন্যায়তীর্থ।
LONG প্রশ্ন ও উত্তর
‘চরকসংহিতা‘ সম্পর্কে একটি নাতিদীর্ঘ প্রবন্ধ লেখো।
ভুমিকা :- চরকের নাম অনুসারে ‘চরকসংহিতা’ এরূপ নামকরণ হয়েছে বলে বোধ হয়। পন্ডিতেরা অনুমান করেন যে, উপলভ্যমান ‘চরকসংহিতা’ কোনো এক ব্যক্তির রচনা নয়। যাই হোক, স্বতন্ত্রভাবে আয়ুর্বেদের প্রথম যে গ্রন্থটি পাওয়া গেছে সেটা হল চরকসংহিতা। বলা হয়, মহর্ষি আত্রেয়ের শিষ্য অগ্নিবেশ প্রথম আয়ুর্বেদ শাস্ত্র বিস্তৃতভাবে রচনা করেন। তারপর চরক সেই লুপ্তপ্রায় অগ্নিবেশের শাস্ত্রের সংস্কার সাধন করেন। এটিই চরকসংহিতা নামে আমাদের কাছে উপলব্ধ।
কবি পরিচয় :- চরক ছিলেন একজন প্রাচীন ভারতের চিকিৎসক। অধ্যাপক লেভির মতে চরক ছিলেন রাজা কণিস্কের সমসাময়িক। তিনি ছিলেন রাজা কানিষ্কের বিশ্বস্ত চিকিৎসক।
রচনাকাল :- চরকসংহিতার বর্তমান উপলব্ধ সংস্করণটি 100 খ্রীষ্টপূর্ব থেকে 100 খ্রীষ্টাব্দের মধ্যে রচিত।
গ্রন্থ বিন্যাস :- চরকসংহিতায় আটটি স্থান আছে এবং অধ্যায় সংখ্যা হল 120 টি। স্থান শব্দের অর্থ হলো বিভাগ।
গ্রন্থের বিষয়বস্তু
চরকসংহিতার আটটি স্থান হল-
- 1) সূত্রস্থান :— এতে আয়ুর্বেদের লক্ষণ ও প্রয়োজন, শারীরিক ও মানসিক দোষগুলির বিবরণ, খনিজ ও উদ্ভিজ্জ দ্রব্যগুলির রোগ নিরাময়ের জন্য প্রয়োগ প্রভৃতি বর্ণনা করা হয়েছে।
- 2) নিদানস্থান :— এখানে বিভিন্ন ব্যাধির ভেদ, পর্যায় ও বিভিন্ন রোগের লক্ষণ আলোচিত হয়েছে।
- 3) বিমানস্থান :— এখানে কটু, অম্লাদি রসের কার্যকারিতা এবং বিভিন্ন রোগের মূলে তাদের ভূমিকার কথা আলোচিত হয়েছে।
- 4) শারীরস্থান :— শারীরস্থানে ধাতুভেদে পুরুষের ভেদ, শরীরের গঠনানুসারে যোগের ভেদ নির্ণয় বর্ণিত হয়েছে।
- 5) ইন্দ্রিয়স্থান :— ব্যাধির উদ্ভবে বিভিন্ন ইন্দ্রিয়ের ভূমিকার বিশদ আলোচনাআছে।
- 6) চিকিৎসাস্থান :— বিভিন্ন রোগের কারণ ও তার প্রতিকারের উপায় আলোচিত হয়েছে। এখানে রাজযক্ষা, কর্কট প্রভৃতি দুরারোগ্য ব্যাধির চিকিৎসাপদ্ধতি নির্দিষ্ট হয়েছে।
- 7) কল্পস্থান :— এখানে দ্রব্যগুণ বিচার ও বিভিন্ন গাছগাছড়া থেকে ঔষধ প্রস্তুতের বিবরণ পাওয়া যায়।
- 8) সিদ্ধিস্থান :— বিভিন্ন কফ, দাহ প্রভৃতি ব্যাধি থেকে সত্বর আরোগ্য লাভের উপায়, ঔষধের সেব্যাসেব্য প্রভৃতি সিদ্ধস্থান নামক অংশে বর্ণিত হয়েছে।
ব্যাধি সমূহের উৎপত্তির আলোচনা প্রসঙ্গে চরকসংহিতায় বলা হয়েছে যে, মানুষের সর্ববিধ রোগের মূলে আছে বায়ু, পিত্ত ও কফের প্রভাব—’বায়ুঃ পিত্তং কফশ্চোক্তঃ শারীরো দোষসংগ্রহঃ’।
মূল্যায়ন
চরকসংহিতা শুধু চিকিৎসাগ্রন্থ হিসাবে নয়, মানুষের সার্বিক মানসিক উন্নতির জন্য যা কিছু জ্ঞানের প্রয়োজন তৎসমুদয় লিপিবদ্ধ রয়েছে চরকসংহিতায়। এই গ্রন্থটি গ্রন্থটি গদ্য ও পদ্যে মিশ্রিতভাবে রচিত। বিভিন্ন রোগের নিরাময়ে মানুষের জীবনযাত্রার পবিত্রতাও যে প্রয়োজনী
প্রাচীন ভারতের আয়ুর্বেদ চর্চা সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত টীকা লেখো।
ভূমিকা :- প্রাচীনকাল থেকেই ভারতবর্ষে আয়ুর্বেদ চর্চা প্রচলিত হয়েছে। আয়ুর্বেদশাস্ত্র পাঠ করলে আয়ু সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য জানা যায়। যেমন জীবন স্বল্পায়ু না দীর্ঘায়ু হবে, রোগ মুক্ত জীবন, স্বাস্থ্য কীভাবে বজায় রাখা যায় ইত্যাদি। কথিত আছে, যে প্রজাপতি ব্রহ্মা প্রজা সৃষ্টি করার পূর্বে এক লক্ষ শ্লোক ও এক হাজার অধ্যায়ে ‘ব্রহ্মাসংহিতা’ নামে একটি আয়ুর্বেদ শাস্ত্র রচনা করেছিলেন।
আয়ুর্বেদ শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ:- আয়ুর্বেদ শব্দটিতে দুটি শব্দ আছে। ‘আয়ু’ এবং ‘বেদ‘। ‘আয়ু’ শব্দের অর্থ জীবন আর ‘বেদ’ শব্দের অর্থ জ্ঞান বা বিদ্যা অর্থাৎ আয়ুর্বেদ শব্দের পুরো অর্থ হল জীবনবিজ্ঞান বা জীববিদ্যা। আয়ুর্বেদ চিকিৎসা হলো মূলত ভেষজ বা উদ্ভিদের মাধ্যমে চিকিৎসা।
অষ্টাঙ্গ আয়ুর্বেদ:- অষ্টাঙ্গ আয়ুর্বেদের আটটি অঙ্গ বা তন্ত্র রয়েছে। তা হল-
(১) শল্য,
(২) শলাকা,
(৩) কায়চিকিৎসা,
(৪) ভূতবিদ্যা,
(৫) কৌমার ভৃত্য,
(৬) অগদ,
(৭) রসায়ন এবং
(৮) বাজীকরণ।
আয়ুর্বেদশাস্ত্রের আটটি সম্প্রদায় :- আয়ুর্বেদশাস্ত্রের কলেবর বিস্তৃত। তাই তন্ত্রকে অবলম্বন করে আটটি সম্প্রদায় গড়ে উঠেছে। তা হল –
(১) আত্রেয়,
(২) ধন্বন্তরি
(৩) শালাক্য,
(৪) ভূতবিদ্যা,
(৫) কৌমার ভৃত্য,
(৬) অগদতান্ত্রিক,
(৭) রসায়ন তান্ত্রিক এবং
(৮) বাজীকরণ তান্ত্রিক সম্প্রদায়।
আয়ুর্বেদের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:- আয়ুর্বেদের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হল- চরকসংহিতা, সুশ্রুতসংহিতা, ভেলসংহিতা ছাড়াও রয়েছে, অষ্টাঙ্গসংগ্রহ, অষ্টাঙ্গহৃদয়, রসরত্নসমুচ্চয়, চিকিৎসাসার সংগ্রহ, জীবকতন্ত্র প্রভৃতি।
“দশকমারচরিত” এর সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।
ভূমিকা:- সংস্কৃত সাহিত্যের একটি সার্থক আখ্যায়িকা শ্রেণীর গদ্যকাব্য “দশকমারচরিত”। গ্রন্থটির রচয়িতা দন্ডী খ্রীষ্টীয় সপ্তম শতকে বর্তমান ছিলেন বলে অনুমান করা হয়। রাজপ্রাসাদের সংকীর্ণ গন্ডী অভিক্রম করে সমাজের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে তিনি সহৃদয় পাঠকদের উক্ত কাব্যটি উপহার দিয়েছেন।
গ্রন্থবিভাগ:- এই কাব্যটি মূলতঃ দুটি ভাগে বিভক্ত। যথা- পূর্বপীঠিকা ও উত্তর পীঠিকা। পূর্বপীঠিকায় পাঁচটি উচ্ছ্বাস আর উত্তর পীঠিকায় আটটি উচ্ছ্বাস আছে।
বিষয়বস্তু:- দশকুমারচরিত কাব্যটিতে মূলত, দশজন কুমারের অভিজ্ঞতার কহিনী বর্ণিত হয়েছে। মগধের রাজা রাজহংশ মালবের রাজার কাছে হেরে গিয়ে রানির সঙ্গে বিন্ধ্যপর্বতে আশ্রয় গ্রহণ করেন। সেখানে তাঁর রাজবাহন নামে একটিপুত্র জন্মগ্রহণ করে। রাজবহনের সাথে আরও নয়জন মন্ত্রীপুত্র একসাথে লেখাপড়া করে ভাগ্যান্বেষণে দেশ ভ্রমণে বের হল। কিন্তু পথে এক ব্রাহ্মণবেশী কিরাতের সঙ্গে দেখা হওযায় তাকে সাহায্যের জন্য রাজবাহণকে পাতালে নিয়ে চলে গেল। তাঁর খোঁজে অন্যান্য কুমাররা বের হয়ে ঘটনাক্রমে একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। এই ভ্রমণ প্রসঙ্গে তাদের জীবনে যে যে ঘটনা ঘটে তার বর্ণনাই হল ‘দশকুমারচরিত’ কাব্যটির বিষয়বস্তু।
মূল্যায়ণ:- গদ্য রচয়িতা হিসেবে দন্ডীর রচনায় সামঞ্জস্যবোধ দেখা যায়। ভাষা সরল ও মাধুর্যমন্ডিত। রচনার স্থানে স্থানে সমাসবদ্ধ পদ, শ্লেষের প্রয়োগ থাকলেও রচনা তাতে ভারাক্রান্ত হয়নি। প্রতিটি চরিত্র তাঁর লেখনীর স্পর্শে প্রাণবন্ত। আখ্যানটি আকারে, ঘটনা বৈচিত্রে ও বিভিন্ন চরিত্রে উপস্থাপনায় শ্রেষ্ঠ। সর্বোপরি গদ্যকাব্য রচনায় দন্ডীর প্রধান বৈশিষ্ট্য যেটি, সেই পদলালিত্যের খ্যাতি ভারতীয় সুধী সমাজে প্রবাদে পরিনত হয়েছে – “দন্ডিনঃ পদলালিত্যম্”।
সংস্কৃত গদ্যসাহিত্যে বাণভট্টের অবদান নির্ণয় করো।
ভূমিকা:- বাণভট্ট সংস্কৃত গদ্যকাব্যের দরবারে রাজাধিরাজ, সংস্কৃত সাহিত্য গগনের অন্যতম উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক, অসামান্য প্রতিভাধর লেখক। সংস্কৃত গদ্যকাব্য-মালিকার মধ্যমনি তিনি। তাঁর রচনা হল দুটি “হর্ষচরিত” ও ”কাদম্বরী“।
কবি পরিচিতি:- কাব্যদুটি থেকে জানা যায় বাৎস্যগোত্রীয় চিত্রভানু তাঁর পিতা এবং মাতা রাজদেবী। বাণভট্ট হর্ষবর্ধনের সভাকবি ছিলেন। তাঁর আবির্ভাবকাল খ্রীষ্টিয় সপ্তম শতকের প্রথমার্ধ।
হর্ষচরিত:- প্রথম আড়াই উচ্ছ্বাসে বাণভট্ট আত্মপরিচয় লিপিবদ্ধ করেছেন। তারপর শুরু হয়েছে হর্ষবর্ধনের কথা। স্থানীশ্বরের রাজা পুষ্পভূতি। তাঁহার বংশে মহাপ্রতাপশালী রাজা প্রভাকরবর্ধন। তাঁহার দুই পুত্র রাজ্যবর্ধন ও হর্ষবর্ধন, এক কন্যা রাজ্যশ্রী। মৌখরীরাজ গ্রহবর্মার সঙ্গে রাজ্যশ্রীর বিবাহ হয়। মালবরাজ কর্তৃক গ্রহবর্মার নিধন এবং রাজাশ্রীর অপহরণের সংবাদ আসে। রাজ্যবর্ধন মালবরাজের বিরুদ্ধে যুদ্ধযাত্রা করেন, কিন্তু গৌড়রাজের বিশ্বাসঘাতকতায় নিজেই নিহত হন। প্রতিশোধ গ্রহণ করিবার জন্য হর্ষবর্ধনও যুদ্ধযাত্রা করলেন কিন্তু পথে শুনলেন যে রাজ্যশ্রী মালবরাজের কারাগার হতে পলিয়ে বিন্ধ্যারণ্যে চলে গেছেন। যখন আত্মহত্যা করতে যাচ্ছিলেন তখন এক বৌদ্ধ ভিক্ষু তাঁহার উদ্ধারসাধন করেন। হর্ষ ও রাজ্যশ্রীর মিলন দেখিয়ে এইখানেই আখ্যায়িকা শেষ হয়েছে এবং মনে হয় হঠাৎ শেষ হয়েছে।
কাদম্বরী:- এটিই বাণভট্টের সর্বশ্রেষ্ঠ গদ্যকাব্য। তিনি কাব্যটিকে শেষ করে যেতে পারেননি । তাঁর পুত্র ভূষণট্ট কাজটি শেষ করেন। এই কাব্যের নায়ক চন্দ্রাপীড়, নায়িকা কাদম্বরী। প্রসঙ্গক্রমে এর সাথে জড়িত হয়ে পড়েছে পুণ্ডরীক ও মহাশ্বেতার প্রণয় কাহিনী। বিদিশা রাজ শূদকের নিকট আনীত এক শুকপাখির মুখে কাব্যটির কাহিনী বর্ণিত হয়েছে। নানা ঘটনার মাধ্যমে চন্দ্রাপীড়ের সাথে কাদম্বরীর এবং বৈশম্পায়নের সাথে মহাশ্বেতার মিলনই কাদম্বরীর বিষয়বস্তু।
মূল্যায়ন:- বাণভট্ট একজন সত্যিকারের গদ্যশিল্পী – “গদ্যং কবীনাং নিকষং বদন্তি।” এমন কোন বিষয় নেই যা বাণভট্টের কাব্যদ্বয়ে নেই। তাই বাণের সম্বন্ধে এরূপ প্রবাদ প্রচলিত আছে- “বানোচ্ছিষ্টং জগৎ সর্বম্”। বানভট্ট ভাষাজগৎকে উচ্ছিষ্ট (এঁটো) করে দিয়েছেন। কী বিষয় বর্ণনে, কী চরিত্র চিত্রনে, এমনকি প্রেমিক-প্রেমিকার মিলন-বিরহের বাস্তব চিত্র উপস্থাপনে সর্বত্রই বানভট্টের সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ শক্তি ও অনন্য সুলভ চিত্রগ্রাহিতার অপূর্ব সমন্বয় ঘটেছে।
অনুরূপ পাঠ
লৌকিক ও আধুনিক সংস্কৃত সাহিত্যের ইতিহাস থেকে LONG প্রশ্ন ও উত্তর এর মতো SEMESTER – 4 এর অনুরূপ পাঠগুলি জানতে নিম্নের Link এ Click করে জেনে নাও—
