কারক-বিভক্তি থেকে SAQ প্রশ্ন ও উত্তর

কারক-বিভক্তি থেকে SAQ প্রশ্ন ও উত্তর দ্বাদশ শ্রেণীর SEMESTER – 4 পাঠ্য হিসেবে নির্দিষ্ট। কারক-বিভক্তির সংক্ষিপ্ত পরিচয় জানতে হবে। সম্প্রদান, অপাদান, অধিকরণ ও সম্বন্ধ পদ পাঠ্যে অন্তর্ভুক্ত। ব্যাকরণ থেকে ছয়/সাতটি দুই নং এর প্রশ্নের মধ্যে যেকোনো পাঁচটির প্রদত্ত নির্দেশানুসারে উত্তর করতে হবে (2 X 5 = 10)।

কারক কাকে বলে

‘করোতি (ক্রিয়াং নির্বর্তয়তি) ইতি কারকম্ অর্থাৎ যে কার্য সম্পাদন করে, সেই কারক, এরূপ ব্যুৎপত্তি করে কারক শব্দটি পাওয়া যায়। কিন্তু ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ধরলে একমাত্র কর্তাই কারক হতে পারে, কেননা প্রকৃতপক্ষে কর্তাই কার্য সম্পাদন করে। তাই কারকের সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে— ক্রিয়ান্বয়ি কারকম্ অর্থাৎ কার্যসাধন ব্যাপারে ক্রিয়ার সঙ্গে যার মুখ্য বা গৌণ অন্বয় বা সম্বন্ধ আছে, তাকে কারক বলে।

বিশেষ বিশেষ বিভক্তির সাহায্যেই বিভিন্ন কারকের অর্থ প্রকাশিত হয়। যথা— নৃপঃ তীর্থক্ষেত্রে কোষাৎ স্বহস্তেন দরিদ্রায় ধনং দদাতি ।

কঃ দদাতি — নৃপঃ।কস্মৈ দদাতি — দরিদ্রায় ।
কিং দদাতি — ধনম্ ।কুতঃ দদাতি — কোষাৎ ।
কেন দদাতি — স্বহস্তেন।কুত্র দদাতি — তীর্থক্ষেত্রে।

এইরূপে ‘দদাতি’ এই ক্রিয়াপদের সঙ্গে বাক্যস্থিত অন্য ছয়টি পদের অন্বয় আছে ; সুতরাং এই ছয়টিই কারক।

ষট্ কারকাণি — কারক ছয়টি। যথা— কর্তৃ, কর্ম, করণ, সম্প্রদান, অপাদান ও অধিকরণ।

রাম! বারাণ্যাঃ দরিদ্রায় ধনং দদাতি —এই বাক্যে ‘রাম’ এই সম্বোধন পদের সঙ্গে এবং ‘বারাণ্যাঃ’ এই সম্বন্ধ পদের সঙ্গে ‘দদাতি’ এই ক্রিয়ার কোনরূপ মুখ্য বা গৌণ সম্বন্ধ নাই। এইজন্য সম্বোধন পদ এবং সম্বন্ধ পদ কারক নয় ।

অপাদান-সম্প্রদান-করণাধারকর্মণাম্।

কর্তুশ্চান্যোঽন্যসন্দেহে পরমেব প্রবর্ততে।।

একই প্রাতিপদিকে একাধিক কারকের সম্ভাবনা হলে অপাদান, সম্প্রদান, করণ, অধিকরণ, কর্ম, কর্তা এই ক্রমে যেটি পরে আছে, সেটিই হবে, পূর্বেরটি হবে না। যথা— গঙ্গাং গত্বা স্নাতি ( অধিকরণ ও কর্ম মধ্যে কর্ম) , বিপ্রান্ আহূয় যচ্ছতি (সম্প্রদান ও কর্মমধ্যে কর্ম ) ; গৃহং প্রবিশ্য নির্গচ্ছতি ( অপাদান ও কর্মমধ্যে কর্ম); বিপ্রায় দত্ত্বা গৃহ্নাতি ( অপাদান ও সম্প্রদান মধ্যে সম্প্রদান); অস্তি ঘটঃ পশু ( কর্ম ও কর্তার মধ্যে কর্তা )।

বিভক্তি কাকে বলে

সংখ্যাকারকাদিবোধয়িত্ৰী বিভক্তিঃ অর্থাৎ যার দ্বারা প্রাতিপদিকের সংখ্যা, কারক ও সম্বন্ধ প্রভৃতি বিশেষ বিশেষ অর্থ জানা যায়, তাকে বিভক্তি বলে। যথা— বালকঃ, মুনী, বালিকাঃ, নরস্য প্রভৃতি। সংস্কৃতে বিভক্তি সাতটি। যথা— প্রথমা, দ্বিতীয়া, তৃতীয়া, চতুর্থী, পঞ্চমী, ষষ্ঠী ও সপ্তমী। সংস্কৃত কারক-বিভক্তি

বিভক্তির ব্যবহার তিন প্রকার—

(১) কারকে— অন্নং খাদতি, বালকঃ পঠতি, চন্দ্ৰং পশ্যতি, ইত্যাদি।

(২) শব্দযোগে— শব্দযোগে বিভক্তিকে উপপদ বিভক্তি বলা হয়। গণেশায় নমঃ, শশিনা সহ যাতি কৌমুদী, শ্রমং বিনা বিদ্যা ন ভবতি ইত্যাদি।

(৩) বিশেষ অর্থে— শোকেন ক্রন্দতি নারী (হেতু), আতপায় ছত্রম্ (নিমিত্ত) ইত্যাদি ।

একই স্থানে যুগপৎ কারক-বিভক্তি ও উপপদ-বিভক্তির প্রাপ্তি ঘটলে কারক-বিভক্তি হয়, উপপদ-বিভক্তি হয় না। কারণ, উপপদবিভক্তেঃ কারকবিভক্তির্বলীয়সী। যথা, শিবং নমস্করোতি—এই বাক্যে শিব শব্দের উত্তর নমস্ শব্দযোগে চতুর্থী এবং কৃ ধাতুর কর্ম বলে কর্মকারকে দ্বিতীয়া যুগপৎ প্রাপ্তি হওয়ায় কর্মকারকে দ্বিতীয়া হয়েছে। কিন্তু নমস্ শব্দ যোগে চতুর্থী হয়নি ।

সাধারণত, কর্তৃকারকে প্রথমা বিভক্তি, কর্মকারকে দ্বিতীয়া বিভক্তি, করণকারকে তৃতীয়া বিভক্তি, সম্প্রদানকারকে চতুর্থী বিভক্তি, অপাদানকারকে পঞ্চমী বিভক্তি, সম্বন্ধ পদে ষষ্ঠী বিভক্তি এবং অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি হয়। এ ছাড়া, সম্বোধন পদে প্রথমা বিভক্তি হয়।

SAQ প্রশ্নোত্তর

কারক-বিভক্তি থেকে SAQ প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ দ্বাদশ শ্রেণীর SEMESTER – 4 প্রতিটি প্রশ্নের মান 2 অনুসারে বিস্তারিতভাবে সিলেবাস অনুসারে আলোচিত হল। যাদের কঠিন মনে হবে, তারা কোটেশনে থাকা সংস্কৃত সূত্রটি বাদ দিয়ে দেবে।

1) কারক কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
উত্তর :- ‘ক্রিয়ান্বয়ি কারকম্’ অর্থাৎ কার্যসাধন ব্যাপারে ক্রিয়ার সঙ্গে যার মুখ্য বা গৌণ অন্বয় বা সম্বন্ধ আছে, তাকে কারক বলে। যেমন— রাজা দরিদ্রায় বস্ত্রং যচ্ছতি।

2) কারক কয় প্রকার? কি কি?
উত্তর :- কারক ছয় প্রকার। যথা— কর্তৃ, কর্ম, করণ, সম্প্রদান, অপাদান ও অধিকরণ।

3) বিভক্তি কাকে বলে?
উত্তর :- ‘সংখ্যাকারকাদিবোধয়িত্ৰী বিভক্তিঃ’ অর্থাৎ যার দ্বারা প্রাতিপদিকের সংখ্যা, কারক ও সম্বন্ধ প্রভৃতি বিশেষ বিশেষ অর্থ জানা যায়, তাহকে বিভক্তি বলে।

4) বিভক্তি কয় প্রকার? কি কি?
উত্তর :- বিভক্তি সাত প্রকার। যথা— প্রথমা, দ্বিতীয়া, তৃতীয়া, চতুর্থী, পঞ্চমী, ষষ্ঠী ও সপ্তমী বিভক্তি।

5) সম্বোধন পদ ও সম্বন্ধপদ কারক নয় কেন?
উত্তর :- সম্বোধন পদ ও সম্বন্ধপদ কারক নয়, কারণ এই পদ দুটি ক্রিয়ার সঙ্গে মুখ্য বা গৌণ অন্বয় বা সম্বন্ধ থাকে না।

6) উপপদ বিভক্তি কাকে বলে? উদাহরণ সহ বুঝিয়ে দাও।
উত্তর :- ধিক্, নিকষা, বিনা, নানা, প্রতি, নমস্, আরাৎ, ইতর, ঋতে প্রভৃতি শব্দ যোগে যে বিভক্তি হয় তাকে শব্দ বিভক্তি বা উপপদ বিভক্তি বলে। যেমন— ধনাৎ ঋতে ন সুখম্। গ্রামাৎ আরাৎ নদী।

7) কারক বিভক্তি ও উপপদ বিভক্তি একই সঙ্গে হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে কোনটি হবে? উদাহরণ সহ বুঝিয়ে দাও।
উত্তর :- কারক বিভক্তি ও উপপদ বিভক্তি একই সঙ্গে হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে কারক বিভক্তিই হবে। যেমন— ‘মাতা শিবং নমস্করোতি’— এই বাক্যে ‘নমস্’ শব্দ যোগে চতুর্থী না হয়ে কৃ ধাতুর কর্মে দ্বিতীয়া বিভক্তি হয়েছে।

8) সম্প্রদান কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
উত্তর :- পাণিনি সম্প্রদানের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন— “কর্মণা যমভিপ্রৈতি স সম্প্রদানম্” অর্থাৎ কর্তা দানার্থক ধাতুর কর্ম দ্বারা যাকে সম্বন্ধ করতে ইচ্ছা করে, তাকে সম্প্রদান কারক বলে। সম্প্রদান বলতে বোঝায়, নিজ স্বত্ব বিনাশ করে পরস্বত্ব উৎপন্ন করা। যেমন— যজমানঃ ব্রাহ্মণায় গাং দদাতি।

9) রুচ্ বা রুচ্যর্থক ধাতুর প্রয়োগে কোন্ কারক হয়?
উত্তর :- “রুচ্যর্থানাং প্রীয়মাণঃ” অর্থাৎ রুচ্ বা রুচ্যর্থক ধাতুর প্রয়োগে প্রীয়মাণ অর্থাৎ যে প্রীতি অনুভব করে সে সম্প্রদান কারক হয়। যেমন— শিশবে রোচতে মোদকঃ।

10) ধারি ধাতুর প্রয়োগে কোন্ কারক হয়? উদাহরণ দাও।
উত্তর :- “ধারেরুত্তমর্ণঃ” অর্থাৎ ধারি (ধার কর) ধাতুর প্রয়োগে উত্তমর্ণ অর্থাৎ ঋণদাতা সম্প্রদান কারক হয়। যেমন— অহং তুভ্যং শতং ধারয়ামি।

11) স্পৃহ্ ধাতুর প্রয়োগে কোন্ কারক হয়? উদাহরণ দাও।
উত্তর :- “স্পৃহেরীপ্সিতঃ” অর্থাৎ চুরাদি স্পৃহ্ ধাতুর প্রয়োগে কর্তার ঈপ্সিত বিষয় সম্প্রদান কারক হয়। যেমন— বালিকা পুষ্পেভ্যঃ স্পৃহয়তি।

12) নমস্, স্বস্তি ছাড়া আর কোন্ কোন্ শব্দের যোগে চতুর্থী বিভক্তি হয় ? সুত্র লিখে উদাহরণ দাও।
উত্তর :- নমস্, স্বস্তি ছাড়া স্বাহা, স্বধা, অলম্ এবং বষট্ শব্দের যোগে চতুর্থী বিভক্তি হয়। সুত্র- “নমঃস্বস্তিস্বাহাস্বধালংবষড্ যোগাচ্চ”। যেমন— গণেশায় নমঃ। অগ্নয়ে স্বাহা।

13) ধারি ধাতুর প্রয়োগে হয় কোন্ কারক হয়? সুত্র লিখে উদাহরণ দাও।
উত্তর :- ধারি (ধার কর) ধাতুর প্রয়োগে উত্তমর্ণ অর্থাৎ ঋণদাতা সম্প্রদান কারক হয়। সুত্র— “ধারেরুত্তমর্ণঃ”।  যেমন— স মহ্যং শতং ধারয়তি।

14) কোন্ প্রত্যয়ান্ত ক্রিয়পদ উহ্য থাকলে কর্মে চতুর্থী হয়? সুত্র উল্লেখ করে উদাহরণ দাও।
উত্তর :-  যদি তুমুন্ প্রত্যয়ান্ত পদের পরিবর্তে ভাববাচ্য নিষ্পন্ন কৃদন্ত পদের প্রয়োগ হয়, তাহলে ভাববাচক অর্থাৎ ক্রিয়াবাচক বিশেষ্যপদে চতুর্থী বিভক্তি হয়। সুত্র- “তুমর্থাচ্চ ভাববচনাৎ”। যেমন— ব্রাক্ষ্মণঃ যাগায় যাতি।

15) অপাদান কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
উত্তর :- পাণিনি অপাদানের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন— “ধ্রুবমপায়েহপাদানম্” অর্থাৎ অপায় শব্দের অর্থ সংযোগ পূর্বক বিশ্লেষ। আর ধ্রুব শব্দের অর্থ স্থির, নিশ্চল। অপায় বা কোনো কিছু থেকে অন্যটি বিশ্লিষ্ট হলে বা দূরে সরে গেলে যেটি ধ্রুব, তা অপাদান কারক হয়। যেমন— বৃক্ষাৎ পত্রং পততি।

16) অধিকরণ কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
উত্তর :- পাণিনি অধিকরণের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন— “আধারোঽধিকরণম্” অর্থাৎ ক্রিয়ার আধার বা আশ্রয়কে অধিকরণ কারক বলে। যেমন— মুনিঃ বনে বসতি।

17) অধিকরণ কারকে কোন্ বিভক্তি হয়? বিভক্তি বিধায়ক সূত্রটি লেখ।
উত্তর :- অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি হয়। বিভক্তি বিধায়ক সূত্রটি হল “সপ্তম্যধিকরণে চ” অর্থাৎ অধিকরণ কারকে সপ্তমী বিভক্তি হয়।

18) সম্বন্ধ পদ কারক নয় কেন? উদাহরণ সহ বুঝিয়ে দাও।
উত্তর :- ‘বারাণস্যাঃ নৃপঃ বস্ত্রং দদাতি’— এই বাক্যের ‘দদাতি’ ক্রিয়াপদের সঙ্গে ‘বারাণস্যাঃ’ পদের কোনরূপ মুখ্য বা গৌণ অন্বয় বা সম্বন্ধ নেই তাই সম্বন্ধ পদ কারক নয়।

19) স্থূলাক্ষর পদগুলোর কারক বিভক্তি নির্ণয় করো— গণেশায় মোদকঃ রোচতে। মূষিকঃ মার্জারাৎ বিভেতি।
উত্তর :- গণেশায় মোদকঃ রোচতে— রুচ্ ধাতুর যোগে সম্প্রদানে চতুর্থী। মূষিকঃ মার্জারাৎ বিভেতি— ভী ধাতুর যোগে অপাদানে পঞ্চমী।

20) স্থূলাক্ষর পদগুলোর কারক বিভক্তি নির্ণয় করো— ধনাৎ বিদ্যা গরীয়সী। ফলেভ্যঃ উদ্যানং যাতি।
উত্তর :- ধনাৎ বিদ্যা গরীয়সী— অপেক্ষার্থে পঞ্চমী। ফলেভ্যঃ উদ্যানং যাতি— তুমুন্ প্রত্যয়ান্ত ক্রিয়াপদ উহ্য থাকায় কর্মে চতুর্থী।

21) স্থূলাক্ষর পদগুলোর কারক বিভক্তি নির্ণয় করো— শিবায় নমঃ। বিদ্বান্ সর্বেষাং পূজিতঃ।
উত্তর :- শিবায় নমঃ— নমস্ শব্দযোগে চতুর্থী। বিদ্বান্ সর্বেষাং পূজিতঃ— বর্তমানকালে বিহিত ক্ত প্রত্যয়যোগে কর্তায় ষষ্ঠী।

22) স্থূলাক্ষর পদগুলোর কারক বিভক্তি নির্ণয় করো— হরয়ে রোচতে ভক্তিঃ। ব্যাঘ্রাৎ বিভেতি নরঃ।
উত্তর :- হরয়ে রোচতে ভক্তিঃ— রুচ্ ধাতুর যোগে সম্প্রদানে চতুর্থী। ব্যাঘ্রাৎ বিভেতি নরঃ— ভী ধাতুর যোগে অপাদানে পঞ্চমী।

23) স্থূলাক্ষর পদগুলোর কারক বিভক্তি নির্ণয় করো— কুন্ডলায় হিরণ্যম্। ইদং জগৎ কৃষ্ণস্য কৃতিঃ।
উত্তর :- কুন্ডলায় হিরণ্যম্— তাদর্থ্যে চতুর্থী। ইদং জগৎ কৃষ্ণস্য কৃতিঃ— কৃৎ প্রত্যয়ান্ত শব্দের যোগে কর্তায় ষষ্ঠী।

24) স্থূলাক্ষর পদগুলোর কারক বিভক্তি নির্ণয় করো— অন্নাৎ কাকং নির্বারয়তি। আগতে বসন্তে কোকিলাঃ কূজন্তি।
উত্তর :- অন্নাৎ কাকং নির্বারয়তি— বারণার্থক ধাতুর প্রয়োগে অপাদানে পঞ্চমী। আগতে বসন্তে কোকিলাঃ কূজন্তি— ভাবে সপ্তমী।

25) সম্প্রদান কারক বিধায়ক পাণিনির সূত্রটি লেখ। সূত্রটির অর্থ লেখ।
উত্তর :- সম্প্রদান কারক বিধায়ক পাণিনির সূত্রটি হলো “কর্মণা যমভিপ্রৈতি স সম্প্রদানম্”। কর্তা দানার্থক ধাতুর কর্ম দ্বারা যাকে সম্বন্ধ করতে ইচ্ছা করে, তাই সম্প্রদান।

26) স্পৃহ্ ধাতুর প্রয়োগে কর্তার ঈপ্সিত বিষয় কোন্ কারক হয়? উদাহরণ দাও।
উত্তর :- স্পৃহ্ ধাতুর প্রয়োগে কর্তার ঈপ্সিত বিষয় সম্প্রদান কারক হয়। যেমন— বালিকা পুষ্পেভ্যঃ স্পৃহয়তি।

27) চতুর্থী বিভক্তি বিধায়ক পাণিনির সূত্রটি লেখ। সূত্রটির অর্থ লেখ।
উত্তর :- “চতুর্থী সম্প্রদানে” অর্থাৎ সম্প্রদান কারকে চতুর্থী বিভক্তি হয়। সম্প্রদান কারকের ক্ষেত্রেই এই একটিমাত্র বিভক্তি বিধায়ক সূত্রেই সম্প্রদানে চতুর্থী বিভক্তি হয়। যেমন— রাজা দরিদ্রায় বস্ত্রং যচ্ছতি।

28) ‘ভাব’ শব্দের অর্থ কী? ভাবে কোন্ বিভক্তি হয়?
উত্তর :- ‘ভাব’ শব্দের মানে ক্রিয়া। ভাবে সপ্তমী বিভক্তি হয়।

29) ‘ভাবে সপ্তমী’ কী ? সুত্র লিখে উদাহরণ দাও।
উত্তর :- কোনো একটি ক্রিয়ার কাল দ্বারা যদি অন্য কর্তার ক্রিয়ার কাল নিরূপিত বা স্থির হয় তাহলে পূর্ব ক্রিয়ার কর্তাতে সপ্তমী বিভক্তি হয়। একে ভাবে সপ্তমী বলে। সুত্র- “যস্য চ ভাবেন ভাবলক্ষণম্”। উদাহরণ যেমন— সূর্যে উদিতে পদ্মং প্রকাশতে।

30) ‘সাধু’ ও ‘নিপুন’ শব্দের যোগে কোন্ বিভক্তি হয়? উদাহরণ দাও।
উত্তর :- প্রশংসা করা বোঝালে ‘সাধু’ ও ‘নিপুন’ শব্দের যোগে সপ্তমী বিভক্তি হয়। যেমন— অশোকঃ সংস্কৃতে নিপুনঃ। ব্রাহ্মণঃ পূজায়াং সাধুঃ।

31) নির্ধারণে কোন্ বিভক্তি হয়? সুত্র লিখে উদাহরণ দাও।
উত্তর :- নির্ধারণে ষষ্ঠী ও সপ্তমী বিভক্তি হয়। সুত্র- “যতশ্চ নির্ধরণম্”। উদাহরণ যেমন— কবীনাং কালিদাসঃ শ্রেষ্ঠঃ। কবিষু কালিদাসঃ শ্রেষ্ঠঃ।

32) নির্ধারণ কী? উদাহরণ দাও।
উত্তর :- এক জাতীয় অনেক বস্তু বা ব্যক্তির মধ্য থেকে জাতি, গুণ, ক্রিয়া অথবা নামের দ্বারা একটিকে বেছে নেওয়া বা পৃথক করাকেই বলে নির্ধারণ। যা হতে নির্ধারণ করা হয় তার উত্তর ষষ্ঠী বা সপ্তমী বিভক্তি হয়। যেমন— নরানাং ক্ষত্রিয়ঃ শূরতমঃ। নরেষু ক্ষত্রিয়ঃ শূরতমঃ।

33) পৃথক্, বিনা ও নানা শব্দের যোগে কোন্ কোন্ বিভক্তি হয়? উদাহরণ দাও।
উত্তর :- পৃথক্, বিনা ও নানা শব্দের যোগে দ্বিতীয়া, তৃতীয়া ও পঞ্চমী বিভক্তি হয়। যেমন— শ্রমং শ্রমেণ শ্রমাৎ বা বিনা বিদ্যা ন ভবতি।

34) স্থূলাক্ষর পদগুলোর কারক বিভক্তি নির্ণয় করো—  আম্রং মহ্য়ং রোচতে। বৃক্ষসেচনে দ্বে ধারয়সি মে
উত্তর :- আম্রং মহ্য়ং রোচতে— রুচ্ ধাতুর যোগে সম্প্রদানে চতুর্থী। বৃক্ষসেচনে দ্বে ধারয়সি মে— ধারি ধাতুর যোগে সম্প্রদানে চতুর্থী।

35) স্থূলাক্ষর পদগুলোর কারক বিভক্তি নির্ণয় করো—  বিপ্রায় গাং দদাতি। বালকঃ সাহিত্যে নিপুণঃ।
উত্তর :- বিপ্রায় গাং দদাতি— সম্প্রদানে চতুর্থী। বালকঃ সাহিত্যে নিপুণঃ—  ‘নিপুন’ শব্দের যোগে সপ্তমী।

36) স্থূলাক্ষর পদগুলোর কারক বিভক্তি নির্ণয় করো—  রুদতঃ পুত্রস্য মাতা জগাম। বীজাৎ অঙ্কুরো জায়তে।
উত্তর :- রুদতঃ পুত্রস্য মাতা জগাম— অনাদরে ষষ্ঠী। বীজাৎ অঙ্কুরো জায়তে।—  অপাদান কারকে পঞ্চমী।

37) বীজাৎ অঙ্কুরো জায়তে— কোন্ সূত্রানুসারে কোন্ কারকে কোন্ বিভক্তি হয়েছে?
উত্তর :- “জনিকর্তুঃ প্রকৃতিঃ” সূত্রানুসারে অপাদান কারকে পঞ্চমী বিভক্তি হয়েছে।

38) রেখাঙ্কিত পদটির কারক-বিভক্তি নির্ণয় করো- দেবদত্তঃ যজ্ঞদত্তায় শতং ধারয়তি।
উত্তর :- ধারি ধাতুর যোগে সম্প্রদানে চতুর্থী।

যারা একটু ভালো কিছু দেখাতে চাও তাদের জন্য, “ধারেরুত্তমর্ণঃ সূত্রানুসারে ধারি ধাতুর যোগে সম্প্রদান কারক এবং চতুর্থী সম্প্রদানে সূত্রানুসারে চতুর্থী বিভক্তি হয়েছে।”

39) রেখাঙ্কিত পদটির কারক-বিভক্তি নির্ণয় করো- প্রভুঃ ভৃত্যায় ক্রুধ্যতি।
উত্তর :- ক্রুধ্ ধাতুর প্রয়োগে ভৃত্যের প্রতি কোপ দেখানো হয়েছে, তাই সম্প্রদানে চতুর্থী বিভক্তি হয়েছে।

40) রেখাঙ্কিত পদটির কারক-বিভক্তি নির্ণয় করো বিপ্রায় গাং দদাতি।
উত্তর :- দা ধাতুর প্রয়োগে সম্প্রদানে চতুর্থী বিভক্তি।

41) বৃক্ষাৎ ফলং পততি বাক্যে ‘বৃক্ষাৎ’ পদে কোন্ কারক হয়েছে?
উত্তর :- ‘ধ্রুবমপায়েহপাদানম্’ সূত্রানুসারে ‘বৃক্ষাৎ’ পদটি অপাদান কারক হয়েছে।

42) ইন্দ্রায় বষট্ – বাক্যটিতে ‘ইন্দ্রায়’ পদে কোন্ সূত্রানুসারে কোন্ বিভক্তি হয়েছে?
উত্তর :- ‘নমঃস্বস্তিস্বাহাস্বধালংবষড্ যোগাচ্চ’ সূত্রানুসারে ‘ইন্দ্রায়’ পদে চতুর্থী বিভক্তি হয়েছে।

43) ‘নমস্’ শব্দযোগে কোন্ বিভক্তি হয়? একটি উদাহরণ দাও।
উত্তর :- ‘নমস্’ শব্দযোগে চতুর্থী বিভক্তি হয়। যেমন— গণেশায় নমঃ।

44) ‘ক্রিয়য়া যমভিপ্রৈতি সোহপি সম্প্রদানম্’ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর :- কর্তা ক্রিয়া দ্বারা যার প্রীতি বা সন্তুষ্টি বিধান করে অর্থাৎ কর্তা যার উদ্দেশ্য ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাও সম্প্রদান কারক হয়। যেমন— মাতা পুত্রায় চন্দ্রং দর্শয়তি।

45) ‘তুমর্থাচ্চ ভাববচনাৎ’ কোন্ বিভক্তি বিধায়ক সূত্র? উদাহরণ দাও।
উত্তর :- ‘তুমর্থাচ্চ ভাববচনাৎ’ চতুর্থী বিভক্তি বিধায়ক সূত্র।  যেমন— ব্রাক্ষ্মণঃ যাগায় যাতি।

46) ‘ধ্রুবমপায়েহপাদানম্’ – সূত্রটির অর্থ কী?
উত্তর :- অপায় শব্দের অর্থ সংযোগ পূর্বক বিশ্লেষ। আর ধ্রুব শব্দের অর্থ স্থির, নিশ্চল। ধ্রুব বলতে সম্পূর্ণ স্থির বা গতিরহিত এরূপ বোঝাবে না, সচলও হতে পারে, যেটি হতে বিশ্লেষ বা বিচ্ছিন্ন হবে। অপায় বা কোনো কিছু থেকে অন্যটি বিশ্লিষ্ট হলে বা দূরে সরে গেলে যেটি ধ্রুব, তা অপাদান কারক হয়।

47) ‘ভীত্রার্থানাং ভয়হেতুঃ’ কোন্ কারক বিধায়ক সূত্র? বাক্যে প্রয়োগ দেখাও।
উত্তর :- ‘ভীত্রার্থানাং ভয়হেতুঃ’ অপাদান কারক বিধায়ক সূত্র। যেমন— বালকঃ সর্পাৎ বিভেতি।

48) জুগুপ্সা, বিরাম, প্রমাদার্থক ধাতুযোগে কোন্ কারক হয়? একটি উদাহরণ দাও।
উত্তর :- জুগুপ্সা, বিরাম, প্রমাদার্থক ধাতুযোগে অপাদান কারক হয়। যেমন— পাপাৎ জুগুপ্সতে। বালকঃ পাঠাৎ বিরমতি

49) কারক বিভক্তি নির্ণয় করো— নরঃ প্রতিদ্বন্দ্বিনে অসূয়তি।
উত্তর :- ‘প্রতিদ্বন্দ্বিনে’ পদটিতে সম্প্রদান কারকে চতুর্থী বিভক্তি হয়েছে।

50) ‘কর্মণা যমভিপ্রৈতি স সম্প্রদানম্’— ব্যাখ্যা করো।
উত্তর :- কর্তা দানার্থক ধাতুর কর্ম দ্বারা যাকে সম্বন্ধ করতে ইচ্ছা করে, তা সম্প্রদান কারক। যেমন— রাজা দরিদ্রায় বস্ত্রং যচ্ছতি।

51) ‘ধারেরুত্তমর্ণঃ’— সূত্রটি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর :- ধারি (ধার করা) ধাতুর প্রয়োগে উত্তমর্ণ অর্থাৎ ঋণদাতা সম্প্রদান কারক হয়। যেমন— স মহ্যং শতং ধারয়তি।

52) ‘যস্য চ ভাবেন ভাবলক্ষণম্’— সুত্রে কোন্ বিভক্তি হয়, উদাহরণ সহ লেখো।
উত্তর :- সুত্রে সপ্তমী বিভক্তি হয়। যেমন— সূর্যে উদিতে পদ্মং প্রকাশতে।

অনুরূপ পাঠ

কারক-বিভক্তি থেকে SAQ প্রশ্ন ও উত্তর এর মতো SEMESTER – 4 এর অনুরূপ পাঠগুলি জানতে নিম্নের Link এ Click করো

Leave a Comment