হাসবিদ্যকথা থেকে LONG প্রশ্ন ও উত্তর

হাসবিদ্যকথা থেকে LONG প্রশ্ন ও উত্তর দ্বাদশ শ্রেণীর SEMESTER – 4 পাঠ্য হিসেবে নির্দিষ্ট। এখান থেকে SAQ ধরণের প্রশ্ন আসবে। গদ্য, পদ্য ও নাটক মিলিয়ে পূর্ণমান 10 (5X2=10)।

‘হাসবিদ্যকথা’ গল্পটি হাস্য পরিহাসের এক অনবদ্য নিদর্শন। ‘মৈথিল কোকিল’ বা ‘অভিনব জয়দেব’ বিদ্যাপতি রচিত ‘পুরুষপরীক্ষা’ কথামালা জাতীয় গ্রন্থের অংশবিশেষ। যাঁর পদাবলীতে জনমনের অজস্র উচ্ছ্বাস ও আবেগ অকৃপণ উৎকর্ষ লাভ করেছে, আবার তাঁরই রচনায় এত সারল্য, এত হালকা চালের গল্পকৌতুক, চটুল হাস্য পরিহাস আমাদের বিস্ময়কে হতবাক করে। দেশ ও কালের সীমাকে অতিক্রম করে জনসাধারণের চিত্তকে ভাবাবেগে আপ্লুত করে এক অনন্য স্থানের অধিকারী হয়েছেন। এই বিস্ময়কর প্রতিভাশালী কবি একাধারে কবি, কাহিনীকার, ঐতিহাসিক ছিলেন।

কবি বিদ্যাপতি আনুমানিক 1374 থেকে 1460 বর্তমান ছিলেন। তিনি মিথিলার একজন বিখ্যাত কবি ছিলেন। তিনি মিথিলার মধুবনী পরগনার বিসকী গ্রামের এক ব্রাহ্মণ পরিবারে তাঁর জন্ম। তাঁর পিতার নাম গণপতি। 1410 খ্রীষ্টাকে শিবসিংহের রাজত্বকালে কবি বিদ্যাপতি অবহট্ট ভাষায় ঐতিহাসিক কাব্য ‘কীর্তিপতাকা’ গ্রন্থের পাশাপাশি সংস্কৃত ভাষায় ‘পুরুষপরীক্ষা’ নামক গল্পগ্রন্থ রচনা করেন। এই গল্পগ্রন্থটি পণ্ডিত হরপ্রসাদ রায় ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ থেকে 1815 খ্রিস্টাব্দে বঙ্গানুবাদ করে প্রকাশ করেন এবং লণ্ডন থেকেও পুরুষপরীক্ষার সংস্করণ মুদ্রিত হয়। ‘হাসবিদ্যকথা” গল্পটি ‘পুরুষপরীক্ষা’ নামক কথামালা গ্রন্থের তৃতীয় পরিচ্ছেদের ঊনচল্লিশ সংখ্যক কথা।

‘হাসবিদ্যকথা’র গল্পের রাজা সুপ্রতাপ চারজন চোরকে নগরের বাইরে নিয়ে গিয়ে তাদেরকে শূলে চড়িয়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। বধ্যভূমিতে তিনজন চোরের মৃত্যুর পর চতুর্থ চোর নিশিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেতে মহতী বিদ্যার কথা জানায়। সে মারা গেলে বিদ্যাটি পৃথিবী থেকে লোপ পাবে। সেই বিদ্যার প্রয়োগ করতে গিয়ে চোরের চতুরতায় যখন রাজা ও রাজকর্মচারীদের নিজেদের চুরির কথা প্রকাশ পায়, তখন চোরের হাস্যরসবিদ্যার যোগ্যতায় রাজা তাকে দণ্ড থেকে মুক্তি দেন এবং রাজসভায় অবস্থানের সুযোগ দিয়ে তার সেই গুণবত্তার সমাদরই করেন। ‘হাসবিদ্যকথা’ গল্পে বিপদের সম্মুখীন হয়ে তথা মৃত্যুকে অবধারিত জেনেও মৃত্যুভয়ে ভীত না হয়ে প্রতিকারের উপায় উদ্ভাবন করার ক্ষমতাটিও আমাদের বিশেষভাবে মুগ্ধ করে এবং গল্পের মাধ্যমে সমাজের উচ্চপর্যায়ে অধিষ্ঠিত ব্যক্তিদের নগ্নরূপ প্রকাশের কৌশলটিও আমাদের ভাবাবেগকে বিশেষভাবে নাড়া দেয়।

হাসবিদ্যকথা

হাসবিদ্যকথা পাঠ্যাংশ টি বিষয়ে একনজরে কয়েকটি তথ্য।

পাঠ্যাংশের নামহাসবিদ্যকথা
রচনাকবি বিদ্যাপতি
উৎস গ্রন্থ পুরুষপরীক্ষা

LONG প্রশ্নোত্তর

হাসবিদ্যকথা থেকে LONG প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ সহজ ও সরল ভাষায় আলোচিত হয়েছে।

‘হাসবিদ্যকথা’ গল্পের নামকরণের সার্থকতা বিচার করো।

উত্তর:- মৈথিল কোকিল বিদ্যাপতি রচিত ‘পুরুষপরীক্ষা’ কথামালাজাতীয় গ্রন্থের অংশবিশেষ। ‘হাসবিদ্যকথা’ গল্পটি হাস্য পরিহাসের অনবদ্য নিদর্শন। এই গল্পের কৌতুক পরিহাস ও নীতি উপদেশ সংস্কৃত গল্পসাহিত্যের ভান্ডারে উপাদেয় বৈচিত্রের আস্বাদ দেয়।

‘হাসবিদ্যকথা’ মানে হাসঃ বিদ্য যস্য সঃ হাসবিদ্য (বহুব্রীহি) তস্য কথা (ষষ্ঠী তৎপুরুষ) অর্থাৎ হাসাবার কৌশল যে ব্যক্তির জানা আছে তার কথা। হাসবিদ্য শব্দের অর্থ বিদূষক। অলংকারশাস্ত্র অনুযায়ী বিদূষকের প্রধান কাজ হল বিচিত্র অঙ্গভঙ্গি, পোশাক, আচরণ ও কথাবার্তার মাধ্যমে সভার মধ্যে হাস্যরস ছড়িয়ে দেওয়া।

গল্পে চতুর্থ চোর

অনুরূপ পাঠ

হাসবিদ্যকথা থেকে LONG প্রশ্ন ও উত্তর এর মতো SEMESTER – 4 এর অনুরূপ পাঠগুলি জানতে নিম্নের Link এ Click করে জেনে নাও

Leave a Comment